অবশেষে রাজভবনের আর্জি গেল কলকাতা হাইকোর্টে।রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির অভিযোগের তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ । লালবাজারের ওই তদন্তের ঘটনায় এবার নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজভবন।রাজ্যপালের অফিসের অভিযোগ, -‘তদন্তের নামে ৪১এ ধারায় নোটিস পাঠিয়ে রাজভবনের আধিকারিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে’।বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসের দ্বারস্থ হয়েছে রাজভবন। তাড়াতাড়ি এই মামলার শুনানির আর্জি জানানো হয়েছে।সম্প্রতি রাজ্যপাল বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতহানির অভিযোগ এনেছেন রাজভবনেরই অস্থায়ী এক মহিলা কর্মী। এ ব্যাপারে হেয়ারস্ট্রিট থানায় অভিযোগও দায়ের করেন নির্যাতিতা । অভিযোগকারিণীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এফআইআর রুজু করে তদন্তও শুরু করেছে।চলতি সপ্তাহে ব্যাঙ্কশাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন রাজভবনের তিন কর্মী।অভিযোগকারীর এফআইআরে নাম রয়েছে ওএসডি এসএস রাজপুত, কুসুম ছেত্রী, সিসিটিভি ফুটেজে যাঁকে একটি ব্যাগ হাতে দেখা গিয়েছিল এবং রাজভবনের এক পিওন সন্ত লাল-এর। অভিযোগকারিণীর দাবি, গত ২ মে ঘটনার দিন কয়েকজন রাজভবন কর্মী তাঁকে আটকে রেখেছিলেন। এ বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলেও চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা ওই কর্মীর অভিযোগ।ইতিমধ্যেই ব্যাংকশাল আদালতে অভিযোগকারিণীর গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজভবনের তিন কর্মীকে তলবও করেছিল পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১ (সংযমের অভাবে শাস্তি) এবং ১৬৬ (সরকারি কর্মীর আইনভঙ্গ এবং যার ফলে কারও শারীরিক ক্ষতিসাধন) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।এ ব্যাপারে গত মঙ্গলবার ব্যাংকশাল আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি)-সহ তিন কর্মী। এবার এ বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপও চাইল রাজভবন।চলতি সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
