অমৃতসর ১০জুন:পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সোমবার বলেছেন, সিআইএসএফ এর মহিলা কনস্টেবল যিনি অভিনেতা কঙ্গনা রানাউতকে চড় মেরেছিলেন, তিনি কৃষকদের আন্দোলনের বিষয়ে বিজেপির নির্বাচিত সাংসদের পূর্ববর্তী বিবৃতিতে ক্ষুব্ধ হতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী মান “সন্ত্রাসবাদ” সম্পর্কে তার মন্তব্যের জন্য কঙ্গনার সমালোচনা করেছেন। তিনি অবশ্য বলেন যে এই ঘটনাটি ঘটা উচিত ছিল না৷ গত সপ্তাহে চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে কঙ্গনাকে চড় মারার অভিযোগে সিআইএসএফ মহিলা কনস্টেবল কুলবিন্দর কৌরের ঘটনা নিয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর এটিই প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল৷কৌর স্পষ্টতই কৃষকদের বিক্ষোভে কঙ্গনার অবস্থানে বিরক্ত ছিলেন।
থাপ্পড় মারার ঘটনায় এক প্রশ্নের জবাবে মান বলেন, “দেখুন, ওটা রাগ ছিল। সে (কঙ্গনা) আগেও এমন কথা বলেছিল।মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টি (এএপি) নেতা বলেন,”কোথাও, সেই মহিলার (সিআইএসএফ কনস্টেবল) মনে ক্ষোভ ছিল। তবে এমন হওয়া উচিত ছিল না।”
কঙ্গনার একটি সুস্পষ্ট মন্তব্যের উল্লেখ করে, মান বলেন যে একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা বা এমপি-র যাই হোক না কেন, পুরো পাঞ্জাবকে একটি সন্ত্রাসী রাজ্য বলা ভুল এবং রাজ্যে সন্ত্রাস রয়েছে এটাও বলা ভুল।
মুখ্যমন্ত্রী দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে পাঞ্জাবের অবদানের কথা স্মরণ করেন ।মান বলেন,”প্রতিটি ইস্যুতে, আপনি বলছেন যে তারা সন্ত্রাসী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী। কৃষকরা বিক্ষোভ করলে তাদের সন্ত্রাসী বলা হয়। এটা ভুল।”
বলিউড অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী কঙ্গনা রানাউতকে থাপ্পড় মেরে শাস্তির মুখে চণ্ডীগড় বিমানবন্দরের মহিলা নিরাপত্তারক্ষী কুলবিন্দর কউর। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু ভয় পাচ্ছেন না কুলবিন্দর। বরং নিজেই জানিয়েছেন, কেন কঙ্গনাকে থাপ্পড় মেরেছিলেন তিনি।চণ্ডীগড় থেকে দিল্লিতে যাচ্ছিলেন কঙ্গনা। বিকেলে বিস্তারার বিমান ধরতে চণ্ডীগড় বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। সেখানে নিরাপত্তা তল্লাশির সময়ে ওই সিআইএসএফ কর্মীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, কঙ্গনা নিজের মোবাইল তল্লাশির জন্য নির্দিষ্ট ট্র-তে রাখতে চাননি। এর পরই মহিলা নিরাপত্তারক্ষী এসে কঙ্গনাকে সপাটে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ।
দিল্লি বিমানবন্দরে নেমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান কঙ্গনা। তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর পরেই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সাসপেন্ডও করা হয়েছে ওই কর্মীকে।
ঘটনার পরে একটি ভিডিয়োবার্তা প্রকাশ করেছেন কঙ্গনা। সেখানে গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন তিনি। পাঞ্জাবে সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তিনি। অভিযোগ, ওই মহিলা কৃষক আন্দোলনের সমর্থক।
শাস্তি পেয়ে মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত সিআইএসএফ কর্মী। তিনি জানান, কৃষক আন্দোলনের সময়ে কঙ্গনার একটি মন্তব্য তিনি মেনে নিতে পারেননি। বিমানবন্দরে তাঁকে দেখে তাই তাঁর মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। ইচ্ছা করেই কঙ্গনাকে থাপ্পড় মেরেছেন বলে জানান অভিযুক্ত।
উল্লেখ্য, কৃষক আন্দোলন চলাকালীন কঙ্গনা এক বার বলেছিলেন, ১০০ টাকার বিনিময়ে আন্দোলন করতে বসেছেন কৃষকেরা। এই মন্তব্যের জেরেই ক্ষুব্ধ হন কুলবিন্দর। তিনি জানান, তাঁর মা-ও কৃষক আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। টাকার বিনিময়ে আন্দোলন করার কথা বলে কৃষকদের অপমান করেছেন কঙ্গনা। সেই কারণেই তিনি তাঁকে সামনে পেয়ে থাপ্পড় মেরেছেন।
