অবৈধ নিয়োগকে ‘ব্যতিক্রমী’ নিয়োগ বলেছিলেন তিনি। এবার হাইকোর্টে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Abhijit Gangopadhyay) এজলাসে সেই ব্রাত্যবসুরই (Bratya Basu) নাম নিলেন শিক্ষাসচিব মণীশ জৈন। শিক্ষাসচিবের দাবি, অবৈধবাবে নিয়োগ হওয়া কারুরই চাকরি যাবে না, অতিরিক্তি শূন্যপদ তৈরি করে তাদের নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল রাজ্য মন্ত্রীসভায়। মণীশ জানান, শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর তরফেও এবিষয়ে শূণ্যপদ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার বিচারপতি ও শিক্ষাসচিবের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে। অযোগ্যদের নিয়োগ সংক্রান্ত বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে মণীশ জানান, উপযুক্ত জায়গা থেকে নির্দেশ এসেছিল। ব্রাত্য বসুর নির্দেশ ছিল। তিনি আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। আইনজীবী এবং অ্যাডভোকেট জেনারেলের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। আইন দপ্তরের সঙ্গেও কথা হয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও কথা হয়। মুখ্যসচিবকে জানানো হয়। ক্যাবিনেটে নোট পাঠানো হয়।
এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বলেন, ‘ক্যাবিনেটকে বলতে হবে যে অযোগ্যদের পাশে আমরা নেই এবং ১৯ মে-র বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করতে হবে। নাহলে এমন পদক্ষেপ করব যেটা গোটা দেশে কখনও হয়নি। আমি ক্যাবিনেটকে পার্টি করে দেব। সবাইকে এসে উত্তর দিতে হবে। প্রয়োজনে শোকজ করাও হবে। আমি ইলেকশন কমিশনকে বলব তৃণমূলের লোগো প্রত্যাহার করার জন্য। আমি মুখ্যমন্ত্রীর যন্ত্রণা বুঝতে পারি। কিছু দালাল যারা মুখপাত্র বলে পরিচিত, তাঁরা আদালতের নামে যা ইচ্ছা বলছে। নিয়োগ হলেই নাকি আদালতে গিয়ে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসা হচ্ছে।‘ যদিও অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে শুনানি চলাকালীনই খবর আসে যে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় সিবিআই তদন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছে। যদিও তাতেও বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণ থেকে সরে আসেননি।
