শান্তনু ঠাকুরের সভায় আমন্ত্রণই পেলেন না সুকান্ত রাজ্যে সিএএ কার্যকর হবেই, হু্কার শুভেন্দুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের সংখ্যালঘু ভোটব্যা্কে ভাঙন ধরাতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনই (সিএএ) যে বঙ্গ বিজেপির বড় হাতিয়ার, শনিবার ফের একবার তা স্পষ্ট করে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের উদ্যোগে মতুয়াদের নিয়ে আয়োজিত সমাবেশে রাখঢাক না রেখে তিনি বলেন, ‘বাংলায় সিএএ কার্যকর হবেই। শুধু সময়ের অপেক্ষা। পারলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আটকে দেখান।’ তবে সিএএ কার্যকর হলেও কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার কথায়, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভেদাভেদ করেন না। তাই সিএএ কার্যকর হলেও কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে না। বরং বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, বৌদ্ধদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’ যদিও শুভেন্দুর হুঙ্কারকে গুরুত্ব দিতে রাজি হননি রাজ্যের শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের অন্যতম মুখপাত্র সুখেন্দুশেখর রায়ের কথায়, ‘উনি কী বললেন, তাতে গুরুত্ব দিচ্ছি না। জীবন দিয়ে হলেও মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার মতো কালা কানুন রুখব।’
তিন বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন চালু না হওয়ায় বঙ্গ বিজেপির উপরে চটেছে মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতারা। এমনকী অসীম সরকার সহ বেশ কয়েকজন পদ্ম বিধায়কও নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। লোকসভা ভোটের আগে সিএএ চালু না করা হলে বিজেপির হয়ে যে ভোট চাইতে মানুষের দরজায়-দরজায় যাবেন না, তাও জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে যথেষ্টই চাপে পড়েছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। পঞ্চায়েত ভোটে যাতে সিএএ কার্যকর না হওয়ার রাগ ইভিএমে প্রতিফলিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে ফের সিএএ নিয়ে সরব হয়েছে পদ্ম শিবিরের নেতারা।
এদিন ঠাকুরনগরে মতুয়াদের সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে ডাকলেও বঙ্গ বিজেপির মুখিয়া সুকান্ত মজুমদারকে আমন্ত্রণ জানাননি কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। এমনকী বনগাঁ জেলা বিজেপির সাংগঠনিক সভাপতি ও বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক স্বপন মজুমদারকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।